কুর্নিশ' কথাটির মানে কিছুটা পিছিয়ে সম্ভ্রমপূর্ণ সালাম বা অভিবাদন।
"শির নেহারি' আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির" কথাটির মধ্য দিয়ে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতার কবি বীর-ধর্মের অনুসারী। আত্মপ্রত্যয়ী বীরের চিত্ত সর্বদাই সমুন্নত। সংগত কারণে কবির এই বীরসভা কোনোকিছু পরোয়া করে না; ধ্বংসের দামামা বাজিয়ে এগিয়ে যায় নতুন সৃষ্টির লক্ষ্যে। কবি মনে করেন, আত্মগৌরবে বলীয়ান তাঁর সেই সদম্ভ বীরোচিং রূপ অবলোকন করে হিমাদ্রি তথা হিমালয়ও যেন মাথা নত করে। প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার অত্যাচারীর শাসন-শোষণ প্রতিরোধী চেতনার দিকটি নির্দেশ করছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সমগ্রপ্রসারী বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশির ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হন। কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণ থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে নিজের বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব রচনা করেছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে অত্যাচারীর শক্তি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শাসনের নামে যারা নির্যাতন করে তাদের রুখে দিতে জনতা সজাগ। এই জনতা কোনো অপশক্তিকেই ভয় করে না যেকোনো মূল্যে তারা বাংলাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে চায়। অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই মানসিকত্র 'বিদ্রোহী' কবিতার ছত্রে ছত্রে বিদ্যমান। কবিও তাঁর কবিতায় সকল অত্যাচারী শক্তির অবসান কামনায় নিরন্তর বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। আর উদ্দীপকে কবিতার এ দিকটিই নির্দেশিত হয়েছে।
শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী রূপ ধারণ করায় উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে কবির জন্ম। সংগত কারণেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির করাল গ্রাসে ভারতবাসীর চরম দুরবস্থা তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। চারদিকে অন্যায়-অত্যাচার, যেন এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে গোটা জাতি গুমরে মরছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিরাজমান বৈষম্য ও অচলায়তনকে ঘোচাতেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন কবি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শাসন আর শোষণের শৃঙ্খলে বন্দি জনতা সংগ্রামী হয়ে উঠেছে। তারা শাসকগোষ্ঠীর কোনো অত্যাচারে গুটিয়ে যায় না। অপশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতা বজ্র হুংকারে মনের ভয় দূর করে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় বাংলা মাকে পাহারা দেয়।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই তিনি উদ্দীপকের সংগ্রামী জনতার বিদ্রোহী সত্তাকে আকাঙ্ক্ষা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, দ্রোহই একদিন পরাধীন জাতিকে পৌঁছে দেবে মুক্তির সীমানায়। উদ্দীপকের বিদ্রোহী জনগণের জীবনাদর্শের মূলও ছিল দ্রোহ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View Allঅর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
উত্তর
বিদ্রোহী
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!